ENG.BD

জাতীয় প্যারা ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিবন্ধী শাটলারদের লড়াই

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট ২০২৫) ঢাকার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে জাতীয় প্যারা ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ। এই দুদিনের টুর্নামেন্টে প্রায় একশ’ প্যারা শাটলার অংশ নিচ্ছেন। কারও এক হাত নেই, কারও এক পা, কারও হাত-পা ছোট, কেউ খর্বকায়, আবার কেউ হুইলচেয়ারে—সবাই র‌্যাকেট হাতে খেলছেন এই টুর্নামেন্টে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ব্যাডমিন্টনের চার সেরা শাটলার—খন্দকার আবদুস সোয়াদ, গৌরব সিংহ, ঊর্মি আক্তার ও নাছিমা খাতুন। তাদের মঞ্চে নিয়ে আসেন ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফ আহমেদ।

প্যারা শাটলারদের উৎসাহ দিতে এসেছিলেন জুলাইযোদ্ধা জাভেদ ইকরাম লিওন। গত বছরের ৪ আগস্ট কাওরানবাজারে অফিস থেকে ফেরার পথে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে যোগ দিয়ে বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তিনি বলেন, ‘এখন আমিও তাদের মতো। তাই তাদের উৎসাহ দিতে এসেছি।’

ইয়ামিন হোসেন প্যারা ব্যাডমিন্টনে পরিচিত নাম। ৪ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই শাটলার ২০২৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ফক্সেস আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বৈতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। তার সতীর্থ ছিলেন কুয়েতের আবদুল্লাহ। বাহরাইনে দুইবার আন্তর্জাতিক প্যারা ব্যাডমিন্টন এবং জাপানে বিশ্ব প্যারা ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছেন তিনি। দুই বছর আগে চীনের প্যারা এশিয়ান গেমসেও খেলেছেন। পেশায় চা দোকানি ইয়ামিন বলেন, ‘আমি বিশ্ব আসরে পদক জিতেছি। র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করেছি। কিন্তু ২০২৩ সালের পর আর কোথাও খেলার জন্য ডাক পাইনি।’ তিনি যোগ করেন, ‘দোকান চালিয়ে খেলতে আসি। যদি আমাদের বেতন দেওয়া হতো, তাহলে আমরা প্যারা ব্যাডমিন্টনে আরও সময় দিয়ে দেশের জন্য আরও পদক জিততে পারতাম।’

ইয়ামিনের বড় বোনের স্বামী আশরাফ আলীও এবার তার সতীর্থ। তার উচ্চতাও ইয়ামিনের সমান। আশরাফ বলেন, ‘আমরা খেলতে চাই। সে ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই বিদেশ থেকে আমরা পদক আনতে পারব।’

পাবনার সুজানগরের আলমগীর হোসেন মোস্তাকিমের ডান হাত স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট। তবুও তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ছেন তিনি। আলমগীর বলেন, ‘ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় অনুপ্রেরণার বদলে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতাম। বন্ধুরা বলত, যত ভালো খেলিস না কেন, কখনো ভালো জায়গায় যেতে পারবি না।’ তিনি যোগ করেন, ‘সরকার যদি আমাদের জন্য ভালো কিছু করত, তাহলে আমাদের অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে হতো না। আমরা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চাই। এটা যেন নিয়মিত আয়োজন করা হয়।’

জাতীয় চ্যাম্পিয়ন খন্দকার আবদুস সোয়াদ বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিক মানুষেরাই খেলতে গিয়ে কত কষ্ট করি। সেখানে আপনাদের যে কত কষ্ট হয়, জানি। আমাদের শুভেচ্ছা থাকবে আপনাদের সঙ্গে।’ মেয়েদের বিভাগে রানার্সআপ ঊর্মি আক্তার বলেন, ‘আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা থাকব।’